ছবি: সংগৃহীত
কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাম থাকার যে তথ্য ছড়িয়েছে, তা ভিত্তিহীন ও ‘চরম অবমাননাকর’ বলে দাবি করেছে দেশটির সরকার। তথ্যসূত্র: দ্য হিন্দু, এনডিটিভি।
গতকাল শনিবার (৩১শে জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, এপস্টেইন ফাইলের সঙ্গে যুক্ত বলে প্রচারিত একটি ই-মেইলে প্রধানমন্ত্রী মোদির ইসরায়েল সফরের উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি সরকার অবগত হয়েছে। তবে ওই ই-মেইলে থাকা অন্য সব তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০১৭ সালের জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রী সরকারি সফরের অংশ হিসেবে ইসরায়েলে গিয়েছিলেন। কিন্তু সফরের বিষয়টি ছাড়া ই-মেইলে থাকা বাকি সব তথ্য এক দণ্ডিত অপরাধীর নোংরা কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়। এই ধরনের কুৎসাকে অবজ্ঞাভরে প্রত্যাখ্যান করা উচিত।’
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস) এসব নথি প্রকাশ করেছে। মার্কিন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ জানান, আইনি বাধ্যবাধকতার অংশ হিসেবে এপস্টেইন-সম্পর্কিত সব নথি প্রকাশের যে পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসন নিয়েছিল, তা সম্পন্ন হলো।
টড ব্ল্যাঞ্চ বলেন, এতে ৩০ লাখের বেশি পৃষ্ঠার নথি, প্রায় ২ হাজার ভিডিও ও ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি রয়েছে। এপস্টেইনের অপরাধসংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এসব নথি প্রকাশ করা হয়েছে।
নথিগুলোতে নরেন্দ্র মোদির প্রসঙ্গ কেবল তার ২০১৭ সালের জুলাই মাসের ইসরায়েল সফর পর্যন্তই সীমিত বলে স্পষ্ট করেছে ভারত সরকার। তবে মার্কিন হাউস ওভারসাইট কমিটি এবং ড্রপ সাইট নিউজের মতো বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেফরি এপস্টেইন ২০১৯ সালে ট্রাম্পের সাবেক কৌশলবিদ স্টিভ ব্যাননের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদির একটি বৈঠকের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করেছিলেন।
এ ছাড়া ২০১৭ সালের একটি ই-মেইলে মোদির ওয়াশিংটন ও ইসরায়েল সফরকে ‘ইসরায়েল স্ট্র্যাটেজি’-র অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নথিতে কোথাও এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে, প্রধানমন্ত্রী মোদি বা তার কার্যালয় এপস্টেইনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছিল।
প্রসঙ্গত, জেফরি এপস্টেইনকে ২০১৯ সালের জুলাইয়ে যৌন অপরাধে সম্পৃক্ততার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। এর এক মাসের মধ্যে কারাগারে তার মরদেহ পাওয়া যায়।
খবরটি শেয়ার করুন