ফাইল ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) চালু করা অনলাইন–ব্যবস্থার গুরুতর ত্রুটিতে অন্তত ১৪ হাজার সাংবাদিকের ব্যক্তিগত তথ্য উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। ছবি, স্বাক্ষর, জাতীয় পরিচয়পত্র থেকে শুরু করে গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট তথ্য—সবই দুই ঘণ্টার মতো ছিল প্রকাশ্যে।
ইসির ওয়েবসাইটে করা সাংবাদিকদের আবেদনের মধ্যে ছিল ছবি, স্বাক্ষর, জাতীয় পরিচয়পত্র, অফিসের পরিচয়পত্র, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অনুমোদিত সাংবাদিকের তালিকাসহ প্রতিষ্ঠান–সংশ্লিষ্ট তথ্য।
বিষয়টিকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বহীনতার সরাসরি প্রমাণ বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যালের প্রসিকিউটর ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা।
তিনি গণমাধ্যমে বলেন, একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান কীভাবে এমন একটি সিস্টেম চালু করে, যেখানে ডেটা প্রোটেকশন, অ্যাকসেস কন্ট্রোল, বেসিক সিকিউরিটি টেস্টিংই নেই? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—এই ১৪ হাজার সাংবাদিকের ব্যক্তিগত তথ্য কপি হয়েছে কি না, তৃতীয় কোনো পক্ষের হাতে গেছে কি না।
তানভীর হাসান জোহা বলেন, যারা সাংবাদিকদের তথ্য সুরক্ষা, ডিজিটাল নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে বড় বড় কথা বলেন, বাস্তবে তারাই সবচেয়ে অনিরাপদ হাতে এসব তথ্য তুলে দেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের কার্ড দেওয়ার নিয়মে পরিবর্তন এনেছিল ইসি। এবারই প্রথম সাংবাদিকদের কার্ড ও গাড়ির স্টিকার পেতে অনলাইনে (pr.ecs.gov.bd) আবেদন বাধ্যতামূলক করেছে সংস্থাটি।
তবে সাংবাদিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত থেকে গত বৃহস্পতিবার সরে আসে ইসি। ম্যানুয়ালি কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। তবে ইসির সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের আগে প্রায় ১৪ হাজার সাংবাদিক কার্ড ও স্টিকার পেতে তাদের অনলাইন সিস্টেমে আবেদন করেন।
গতকাল শনিবার (৩১শে জানুয়ারি) বিকেল চারটার পর হঠাৎ ইসির ওয়েবসাইটে আবেদন করা সাংবাদিকদের তথ্য উন্মুক্ত হয়ে যায়। ওয়েবসাইটের ইউআরএলে ইউজারের জায়গায় অ্যাডমিন দিয়ে সার্চ করলে সম্পূর্ণ আবেদন এবং তথ্য দেখা যাচ্ছিল।
ওয়েবসাইটের হোম পেজে তালিকা আসার পাশাপাশি আবেদনকারীর নাম, এনআইডি নম্বর, মোবাইল নম্বর এবং সম্পূর্ণ আবেদন ওপেন করার অপশন চলে আসে।
যদিও সন্ধ্যার দিকে ওয়েবসাইটটিতে আর ঢোকা যায়নি। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ শনিবার রাত নয়টার দিকে মোবাইলে সুখবর ডটকমকে বলেন, ‘বিষয়টি আমার নলেজে নেই। আজ বেলা আড়াইটা পর্যন্ত অফিস করেছি। তখন এ নিয়ে কিছু জানা যায়নি। বিকেল থেকে কয়েকজন এ বিষয় জানতে চেয়ে ফোন দিয়েছেন। কী তথ্য, কীভাবে ফাঁস হয়েছে তা না জেনে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। কাল অফিসে গিয়ে জানতে পারব।’
রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় কোনো ডিজিটাল সিস্টেম চালু করার আগে যথাযথ সিকিউরিটি টেস্টিং ও সেনসিটিভ ডেটা প্রোটেকশন মেকানিজম যাচাই করার ওপর জোর দিচ্ছেন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক বি এম মাইনুল হোসেন বলেন, ডিজিটাল সিস্টেম চলে মূলত আস্থা ও বিশ্বাসের ওপর। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে যদি সেই বিশ্বাসের জায়গা তৈরি না হয়, তাহলে জনগণ ডিজিটাল ব্যবস্থার প্রতি বিতৃষ্ণ হয়ে পড়বে। এতে পুরো ডিজিটাল রূপান্তর প্রক্রিয়াই হুমকির মুখে পড়বে।
খবরটি শেয়ার করুন