ছবি: সংগৃহীত
চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর সংবিধান সংস্কার কমিশন এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রধানের দায়িত্ব পালনের সুবাদে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বাংলাদেশের রাজনীতির সংকটময় মুহূর্তে অন্যতম কেন্দ্রীয় ভূমিকায় থেকে বাংলাদেশের বিশেষ বাস্তবতাকেও অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে দেখার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদেও ছিলেন এবং এখনো আছেন।
তবে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল অভিযোগ করেছেন, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ দেশের জন্য ক্ষতিকর সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখছেন এবং দেশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘একটা দেশ ধ্বংস করে দিচ্ছেন একটা লোক। দেশটাকে ধ্বংসের মুখে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’
সম্প্রতি বেসরকারি একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাসুদ কামাল এসব অভিযোগ করেন। নাগরিক হিসেবে দেশের স্বার্থ ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে কথা বলা তার দায়িত্ব বলে মনে করেন মাসুদ কামাল।
তিনি বলেন, অযোগ্য ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নিজেদের অযোগ্যতাই প্রমাণ করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অযোগ্য লোক নিয়ে সরকার নিজেকেই অযোগ্য প্রমাণ করেছে এবং এই অযোগ্যতার জন্য সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।
মাসুদ কামালের দাবি, শুরু থেকেই তিনি এই নিয়োগগুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যখন প্রথম উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেন, তখনই তিনি এসব ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়ার সমালোচনা করেছিলেন। সময়ের সঙ্গে তার আগের মন্তব্যগুলো সত্য প্রমাণিত হচ্ছে বলেই তার মনে হয়।
প্রসঙ্গত, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এর সহসভাপতি আলী রীয়াজকে গত বছরের নভেম্বরে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে আলী রীয়াজ সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান ছিলেন।
আলী রীয়াজ যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনৈতিক বিজ্ঞানের অধ্যাপক, আটলান্টিক কাউন্সিলের নন-রেসিডেন্ট সিনিয়র ফেলো এবং আমেরিকান ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজের (এআইবিএস)-এর প্রেসিডেন্ট।
খবরটি শেয়ার করুন