সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৩ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** আলোচনায় দুরূহ কোণ থেকে মেসির করা ফ্রি-কিকের গোল *** বাংলাদেশি পাটপণ্যে ভারতের নতুন অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক *** চট্টগ্রামে হাসপাতাল থেকে ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার *** পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে ২০টির বেশি ককটেল-পেট্রলবোমা, চলছে নিষ্ক্রিয়ের কাজ *** একটু দায়িত্ববোধ নিয়ে কথা বলতে হবে, বিরোধী দলের উদ্দেশে হুমায়ুন কবির *** বাজারে এলপি গ্যাসের সংকট নেই, সরকারকে জানাল কোম্পানিগুলো *** ন্যাম ভবনে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে বারান্দায়ও ঘুমাতে হতো: পুলিশ *** বন্দুকের ছায়ায় ভোট: পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক *** ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন হঠাৎ ভারতে, চার মাসে তৃতীয় সফর, নেপথ্যে কী *** ডেঙ্গুতে আরও ৮ মৃত্যু, সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত ১৩৬

বাংলাদেশি পাটপণ্যে ভারতের নতুন অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক

নিউজ ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ১০:২৪ অপরাহ্ন, ২৮শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পাটপণ্যে (যার মধ্যে পাটের সুতা ও টুইনও রয়েছে) প্রতি টনে সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে ভারত। দেশটিতে বাংলাদেশের পাটপণ্য রপ্তানি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কমলেও ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ট্রেড রেমেডিজের (ডিজিটিআর) মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনার পর এ সিদ্ধান্ত এলো। তিন মাস আগে সংস্থাটি জানিয়েছিল, বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা ভারতে পাটপণ্য ডাম্পিং অব্যাহত রেখেছেন। এতে দেশটির স্থানীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ইন্ডিয়ান জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন ও এপি মেস্তা টুইন মিলস অ্যাসোসিয়েশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ডিজিটিআর গত বছরের জুনে এ পর্যালোচনা শুরু করে। বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি করা পাটপণ্যে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক বাড়ানো প্রয়োজন কি না, তা নির্ধারণ করাই ছিল এর উদ্দেশ্য।

এজন্য বাংলাদেশে ৫৪টি ও নেপালে ৩৬টি মিলের কাছে তথ্য চাওয়া হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশের ৩৮টি ও নেপালের পাঁচটি মিল সাড়া দেয়।

এর আগে বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি করা পাটের সুতা বা টুইন, হেসিয়ান কাপড় ও পাটের বস্তার ওপর প্রতি টনে ১৯ থেকে ৩৫২ ডলার পর্যন্ত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছিল ভারত।

পরে বাংলাদেশের পাটের বস্তার কাপড়ও এ শুল্কের আওতায় আনা হয়। এতে বাংলাদেশের পাটপণ্যের অন্যতম বড় বাজার ভারতে রপ্তানি কমে যায়।

২৪ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশের ৩৬টি পাটপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করে ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়। এসব প্রতিষ্ঠানের পাটের সুতা, বস্তা ও হেসিয়ান কাপড়ে প্রতি টনে ৫৯ ডলার থেকে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পাটের সুতা রপ্তানিকারক আশা জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ওপর প্রতি টনে সবচেয়ে কম ৫৯ ডলার অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের ১৭টি প্রতিষ্ঠানের পাটের বস্তার ওপর প্রতি টনে ১২০ ডলার শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

ছয়টি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান তাদের রপ্তানি করা সব পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়েছে। সেগুলো হলো—এএম জুট ইন্ডাস্ট্রিজ, বোনানজা জুট কম্পোজিট, লাভলী জুট মিলস, নওহাটা জুট মিলস, পোদ্দার অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ ও রানু অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ।

আরও দুটি প্রতিষ্ঠান—নাটোর জুট মিলস ও জনতা জুট মিলস পাটের বস্তা ও হেসিয়ান কাপড় রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তালিকাভুক্ত ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের বাইরে অন্য কোনো উৎপাদনকারী পাটের সুতা বা টুইন রপ্তানি করলে প্রতি টনে ৪৪৫ ডলার শুল্ক দিতে হবে।

ডিজিটিআরের মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্ত চলাকালে ভারতে পাটপণ্যের চাহিদা ২০ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি কমেছে মাত্র ১৩ শতাংশ। এতে ভারতীয় মিলগুলোর ক্ষতির বিনিময়ে বিদেশি উৎপাদনকারীরা বাজারের অংশীদারত্ব বাড়াচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতে বাংলাদেশের পাটপণ্য রপ্তানি আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ কমে ১ লাখ ১৭ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে।

পাটপণ্যে ভারতের নতুন অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ককে ‘একতরফা’ ও ‘জুলুমবাজি’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএসএ) চেয়ারম্যান তাপস প্রামাণিক।

তিনি বলেন, আমাদের রপ্তানির ওপর অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে তারা যে ভর্তুকির হার বিবেচনায় নিয়েছে, তা কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তাদের ধারণা, আমরা অনেক বেশি ভর্তুকি পাই, যা বাস্তবতা নয়।

বিজেএসএ চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে সরকার পাটের সুতা বা টুইন ও পাটের বস্তার ওপর ৩-৫ শতাংশ ভর্তুকি দেয়।

তাপস প্রামাণিক বলেন, ভারতে পাটপণ্য রপ্তানি কমেছে। তবে প্রাকৃতিক ফাইবারভিত্তিক পণ্যের সামগ্রিক রপ্তানি আরও কমার সম্ভাবনা নেই

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে পাট ও পাটপণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ১১৬ কোটি ডলার আয় করে। পরে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে ৮২ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি আগের অর্থবছরের তুলনায় ৮ শতাংশ বেড়ে ৮৮ কোটি ৪০ লাখ ডলারে উন্নীত হয়।

শুল্ক

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250