শনিবার, ২৮শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ই ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ‘আসিফ নজরুল তৃতীয় শ্রেণির লেখক’ *** নরসিংদীতে কিশোরীকে অপহরণ ও হত্যা: প্রধান আসামি গাজীপুরে গ্রেপ্তার *** ফাওজুল কবিরের সরকারি বাসায় সাবেক উপদেষ্টাদের ইফতার ও নৈশভোজ *** আমি কিছু দেখিনি, ভুল কিছু করিনি—বিল ক্লিনটনের সাক্ষ্য *** হতাহত নিয়ে পাকিস্তান-আফগানিস্তানের পাল্টাপাল্টি দাবি *** ‘কোনো নির্বাচনই শতভাগ নিখুঁত হয় না’ *** জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পুলিশ হত্যার বিষয়টি তদন্ত হবে: মির্জা ফখরুল *** তালেবানের পৃষ্ঠপোষক থেকে কেন প্রতিপক্ষ হয়ে উঠল পাকিস্তান *** ‘ড. ইউনূসের সময়কালে অপসারণ চেষ্টা’—রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জামায়াত আমিরের *** কবি মোহন রায়হানকে ‘অপমান’ করায় উদীচীর নিন্দা

দেশের সেরা দুই পত্রিকা এভাবে ভোল পাল্টাচ্ছে কেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ১১:৫৮ অপরাহ্ন, ২রা জানুয়ারী ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

ইংরেজি পত্রিকা ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম মনে করছেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের প্রতি তিক্ত ও ক্ষুব্ধ হওয়ার যথেষ্ট কারণ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রয়েছে। তবে তিনি এমন কৌশলী বাক্যে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন, যা পড়ে অনেকের কাছে মনে হতে পারে, তারেক রহমানকে যুক্তরাজ্যে নির্বাসনে পাঠিয়েছিল আওয়ামী লীগের গত সরকার।

তিনি বলেন, দেশে অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ না থাকায় একটা বিতর্ক সৃষ্টি হবে। তবে আওয়ামী শাসনের শেষ সপ্তাহগুলোতে শিক্ষার্থী ও শিশুসহ নিহত হওয়ার ঘটনা (তিনি ঘটনা শব্দটিই ব্যবহার করেন) দলটিকে মানুষের কাছ থেকে আরও দূরে সরিয়ে দিয়েছে। এ কারণে আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচনের বিতর্কের মীমাংসা হয়ে যাবে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

বর্তমানে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ বলেই এর নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা দলটিকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে, এ বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই মাহফুজ আনাম এমন দাবি করছেন। আলোচনায় সদ্য প্রয়াত বিএনপির চেয়ারপারসন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের সম্পূর্ণ নাম উল্লেখ করলেও তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে শুধু হাসিনা বলে সম্বোধন করেছেন।

'দ্য ম্যাজিক অব খালেদা জিয়া: হার লাস্ট স্পিসেস কল ফর অ্যা পলিটিক্স অব নো ভেনজেন্স' শিরোনামে প্রকাশিত এক উপসম্পাদকীয়তে মাহফুজ আনাম এসব কথা বলেন। তার লেখা এই উপসম্পাদকীয় আজ শুক্রবার (২রা জানুয়ারি) ডেইলি স্টারের ছাপা সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে।

অবশ্য গত ২১শে নভেম্বরে ডেইলি স্টারে প্রকাশিত এক উপসম্পাদকীয়তে মাহফুজ আনাম বলেছিলেন, ২০০৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগের সমাবেশে প্রাণঘাতী গ্রেনেড হামলা থেকে শেখ হাসিনা অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও ২৪ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী নিহত হন। এই হামলার তদন্ত বা বিচারের কোনো বিশ্বাসযোগ্য উদ্যোগ নেয়নি তৎকালীন বিএনপির সরকার। সেখান থেকে হয়তো শেখ হাসিনা বিশ্বাস করতে শুরু করেন, বিরোধীদলে থাকলে তিনি সবসময় ঝুঁকিতে থাকবেন।

এদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাকে আওয়ামী লীগের শাসনামলে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান তার পত্রিকায় দাবি করেছিলেন 'রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত' হিসেবে। তিনি এখন কোনো ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ছাড়াই দাবি করছেন সেটা ছিল মিথ্যা মামলা। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ থাকা প্রথম আলো এখন সম্পাদকীয়তে তার পুরো নাম না লিখে শুধু হাসিনা লিখছে।

২০১৮ সালে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং তার ছেলে ও দলের ওই সময়ের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সাজার রায় ঘোষণা করেন আদালত। এর পরদিন সম্পাদকীয় লিখে প্রথম আলো একে 'রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত এই মামলার রায়' হিসেবে আখ্যায়িত করে। এই রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপি যেন দেশে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে, দলটির প্রতি আহ্বান জানায় প্রথম আলো।

প্রথম আলো সম্পাদকীয়তে পরামর্শ দেয়, 'বিএনপির নেতৃত্বকে বুঝতে হবে যে মামলার রায় হয়েছে আদালতের মাধ্যমে এবং নিম্ন আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ আছে।...আমরা মনে করি, আইনি বিষয় আইনিভাবেই বিএনপিকে মোকাবিলা করতে হবে। এর বাইরে অন্য কোনো পথ নেই।'

২০১৮ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারিতে প্রথম আলোর ছাপা সংস্করণে প্রকাশিত এক সম্পাদকীয়তে এসব কথা বলা। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা হয় ওই বছরের ৮ই ফেব্রুয়ারি। অর্থাৎ, রায় ঘোষণার পরদিনই ওই সম্পাদকীয় ছাপা হয়। সম্পাদকীয়ের বক্তব্যের দায়ভার সরাসরি সম্পাদকের।

তবে আজ শুক্রবার প্রথম আলোর ছাপা সংস্করণে প্রকাশিত এক সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, 'হাসিনা সরকারের আমলে তাকে (খালেদা জিয়া) নিজ বাসভবন থেকে উচ্ছেদ করা হয়, দুর্নীতির মিথ্যা মামলায় তাকে দীর্ঘদিন জেলের নিঃসঙ্গ সেলে আটক রাখা হয়, করোনা মহামারিকালে গৃহবন্দী অবস্থায় রাখা হয়।' 'খালেদা জিয়ার জানাজা: এমন অভূতপূর্ব শোক–শ্রদ্ধা ইতিহাসে বিরল' শিরোনামে প্রকাশিত সম্পাদকীয়তে পত্রিকাটি এসব কথা লিখেছে।

আজকের উপসম্পাদকীয়তে মাহফুজ আনাম বলেন, 'হাসিনা ও তার সরকারের প্রতি তিক্ত ও ক্ষুব্ধ হওয়ার যথেষ্ট কারণ তারেক রহমানের রয়েছে। নির্বাসন, অসংখ্য মামলা ও ব্যক্তিগত অপমান, এমনকি গণমাধ্যমে তার বক্তব্য প্রকাশে আদালতের আদেশও ছিল। সব মিলিয়ে তিনি সহজেই প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে উঠতে পারতেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত লন্ডন থেকে দেওয়া তার অসংখ্য ভার্চুয়াল বক্তব্যে এবং গত ২৫শে ডিসেম্বর দেশে ফিরে বিশাল সংবর্ধনা সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে অতীতের চেয়ে ভবিষ্যতের কথাই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।'

তিনি দাবি করেন, 'নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ না থাকায় একটা বিতর্ক সৃষ্টি হবে। তবে এটাও মনে রাখতে হবে, আওয়ামী শাসনের শেষ সপ্তাহগুলোতে শিক্ষার্থী ও শিশুসহ এক হাজার ৪০০ সাধারণ মানুষ নিহতের (জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী) ঘটনায় আওয়ামী লীগ কোনো ধরনের অনুশোচনা পর্যন্ত জানায়নি—যা দলটিকে মানুষের কাছ থেকে আরও দূরে সরিয়ে দিয়েছে।'

প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতা নেওয়া সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে আঠারো মাস কারাগারে থাকার পর ২০০৮ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর মুক্তি পেয়েছিলেন তারেক রহমান। পরে ২০০৮ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর লন্ডনের উদ্দেশে পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়ে ঢাকা ছেড়েছিলেন তিনি। এক এগারোর সরকারকে আমরাই ক্ষমতায় বসিয়েছি বলে তখন দাবি করেন মাহফুজ আনাম।

আওয়ামী লীগের সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে তারেক রহমান এতদিন দেশে ফিরতে পারেননি। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গণহত্যা চালানোর অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বকে। তবে এখন পর্যন্ত দলটির নেতা-কর্মীদের চিন্তায় বা কথায় অনুশোচনা প্রকাশের কোনো ইঙ্গিত নেই। গত ২৫শে ডিসেম্বর লন্ডন থেকে ১৭ বছর পর দেশে ফেরেন তারেক রহমান।

মতিউর রহমান মাহফুজ আনাম

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250