ছবি: সংগৃহীত
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের নরসিয়া গ্রামে একটি বাড়িতে মজুত করে রাখা ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আজ সোমবার সন্ধ্যার দিকে একের পর এক বিকট শব্দে ককটেল বিস্ফোরিত হলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এতে বাড়িটির দেয়াল, টিনের চালাসহ বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নরসিয়া গ্রামের ইউনূসের ছেলে ইয়াহিয়ার বাড়িতে ককটেলগুলো মজুত করে রাখা হয়েছিল। আজ রাত ৮টার দিকে হঠাৎ ওই বাড়ি থেকে পরপর বিকট শব্দ শোনা যায়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির ভেতরে ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়টি দেখতে পান। বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই নিরাপদ স্থানে সরে যান।
নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নাজির হোসেন বলেন, রাত ৮টার দিকে ইয়াহিয়া নামের একজনের বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ হয়। এতে টিনের চালা উড়ে গেছে ও দেয়ালের অংশ ভেঙে গেছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে নাশকতার উদ্দেশ্যে এসব ককটেল মজুত করে রাখা হয়ে থাকতে পারে। তবে ককটেলগুলো কী উদ্দেশ্যে ও কারা সেখানে মজুত করেছিল, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ককটেলগুলো কীভাবে সেখানে এল ও কারা এর সঙ্গে জড়িত, তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।
৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, একটি বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে। বাড়িতে কাউকে পাওয়া যায়নি। খাটের নিচে থাকা ককটেলগুলো বিস্ফোরিত হয়েছে। ঘটনার পর বাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছেন। সেখানে বিজিবি সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন। ঘটনাস্থলটি জহুরপুর বিজিবি ক্যাম্প থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ এন এম ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হচ্ছে। তবে কী পরিমাণ ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে, তা তদন্তের পরই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হবে। ঘটনার পর ওই বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছেন। ককটেলগুলো কীভাবে সেখানে মজুত করা হয়েছিল ও বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ কী, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
খবরটি শেয়ার করুন