মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৩ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটে ইউরেনিয়াম সরবরাহ শুরু অক্টোবরে *** পাকিস্তান কেন বাংলাদেশে জ্বালানি নিয়ে আসা বিমানকে আকাশসীমায় ঢুকতে দেয়নি, নেপথ্যে কী *** বাবার ছায়ায় ফ্লাভিও বলসোনারো, রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী হওয়ার লড়াই *** রিকশাওয়ালা পর্যন্ত আইন মানতে চায় না: কেএমপি কমিশনার *** চাঁপাইনবাবগঞ্জে একটি বাড়িতে মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণ, এলাকায় আতঙ্ক *** আলোচনায় দুরূহ কোণ থেকে মেসির করা ফ্রি-কিকের গোল *** বাংলাদেশি পাটপণ্যে ভারতের নতুন অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক *** চট্টগ্রামে হাসপাতাল থেকে ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার *** পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে ২০টির বেশি ককটেল-পেট্রলবোমা, চলছে নিষ্ক্রিয়ের কাজ *** একটু দায়িত্ববোধ নিয়ে কথা বলতে হবে, বিরোধী দলের উদ্দেশে হুমায়ুন কবির

সুখবর এক্সপ্লেইনার

পাকিস্তান কেন বাংলাদেশে জ্বালানি নিয়ে আসা বিমানকে আকাশসীমায় ঢুকতে দেয়নি, নেপথ্যে কী

শাওন দত্ত

🕒 প্রকাশ: ০১:৫০ পূর্বাহ্ন, ২৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

#

ফাইল ছবি

রাশিয়া থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ইউরেনিয়াম জ্বালানি নিয়ে আসা একটি কার্গো বিমান পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশে আসতে পারেনি। ২৪ সেপ্টেম্বর চালানটি ঢাকায় পৌঁছানোর কথা ছিল। বিমানবন্দরে প্রস্তুতিও ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট স্থগিত করা হয়। কেন পাকিস্তান অনুমতি দেয়নি, সেই প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর এখনো বাংলাদেশের কাছেও নেই। ফলে ঘটনাটি নিছক প্রশাসনিক জটিলতা, নাকি এর পেছনে কূটনৈতিক কোনো হিসাব রয়েছে—তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ভারতীয় বার্তাসংস্থা এএনআই ২৮ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। একই দিন ঢাকার দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডও এএনআইয়ের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে জানায়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, পাকিস্তান বিমানটিকে তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। মন্ত্রী এএনআইকে বলেন, ঠিক কী কারণে পাকিস্তান অনুমতি দেয়নি, তা তার জানা নেই। রাশিয়া নতুন সময়সূচি দিয়েছে এবং অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে জ্বালানি আসতে পারে।

ঘটনাটি প্রথম সামনে আসে ২৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে। পত্রিকাটি জানায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অপেক্ষাও করছিলেন। কিন্তু রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম নিয়ে বিমান না আসায় রোসাটমের লিয়াজোঁ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সেখান থেকে জানানো হয়, বিমানের নির্ধারিত পথে আকাশসীমার অনুমতি পাওয়া যায়নি। তবে কোন দেশ অনুমতি দেয়নি, বাংলাদেশ প্রতিদিনের ওই প্রতিবেদনে তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি।

পরবর্তী সময়ে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। ২৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এএনআইয়ের প্রতিবেদনে পাকিস্তানের নাম সরাসরি আসে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী বলেন, বিমানটির রুটে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করার প্রয়োজন ছিল এবং সেই অনুমতি পাওয়া যায়নি। একই প্রতিবেদনে মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, বিমানবন্দরে প্রস্তুতি শেষ করে কর্মকর্তারা অপেক্ষা করছিলেন। পরে রোসাটমের লিয়াজোঁ কর্মকর্তা জানান, আকাশসীমা নিয়ে সমস্যা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের আনন্দবাজার পত্রিকাও ২৮ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়া থেকে আজারবাইজান, কাজাখস্তান, পাকিস্তান ও ভারত হয়ে বিমানটির বাংলাদেশে আসার কথা ছিল। ফলে একাধিক দেশের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি প্রয়োজন। পাকিস্তান অনুমতি না দেওয়ায় বিমানটি নির্ধারিত সময়ে আসতে পারেনি। আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রূপপুর প্রকল্পের পরিচালক কবির হোসেনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইউরেনিয়াম পরিবহনের আরেকটি সম্ভাব্য পথ কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারত হয়ে বাংলাদেশে আসার।

রূপপুর প্রকল্পের পরিচালক কবির হোসেনের বক্তব্যে ঘটনাটির সময়ক্রমও পরিষ্কার হয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে রোসাটম প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে জানায়, নির্ধারিত ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। কারণ, বিমানের রুটে থাকা সব দেশের অনুমতি পাওয়া যায়নি। পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর সকালেও কূটনৈতিকভাবে অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা চলছিল। শেষ পর্যন্ত ওই রাতেই জানানো হয়, রুটের অনুমোদন পাওয়া যায়নি এবং ফ্লাইটটি স্থগিত করা হয়েছে। এরপর নতুন সময়সূচি দেওয়ার কথা জানানো হয়। বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও পরে বিডিনিউজ২৪-এর প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২৪ সেপ্টেম্বরের যে চালানটি আটকে যায়, সেটি নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি বলা হলেও প্রকল্প পরিচালকের ব্যাখ্যায় বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন। তার মতে, প্রথম ইউনিটে এক বছর পর জ্বালানি পরিবর্তনের জন্য ৪৮টি জ্বালানি সমাবেশ দুইটি ফ্লাইটে আসার কথা ছিল। প্রথম ফ্লাইট ২৪ সেপ্টেম্বর এবং দ্বিতীয়টি ১ অক্টোবর। অন্যদিকে দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম জ্বালানি সরবরাহের জন্য ৮ অক্টোবর থেকে প্রতি সপ্তাহে একটি করে মোট সাতটি ফ্লাইটের পরিকল্পনা ছিল।

অর্থাৎ ২৪ সেপ্টেম্বরের ফ্লাইটটি আটকে যাওয়ার প্রভাব শুধু একটি চালানের ওপর সীমাবদ্ধ নয়। সরবরাহব্যবস্থার পুরো সময়সূচিই এক সপ্তাহ পিছিয়ে যাচ্ছে। ২৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত বিডিনিউজ২৪-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোসাটমের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী ফ্লাইট শুরু হবে ১ অক্টোবর থেকে। দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহ অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে এবং বছরের শেষ নাগাদ তা শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

২৮ সেপ্টেম্বর রোসাটমের বিবৃতিতেও একই ধরনের সময়সূচি দেওয়া হয়েছে। রুশ রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন জানিয়েছে, রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ অক্টোবর মাসে শুরু হবে এবং ডিসেম্বরের শেষ পর্যন্ত চলবে। চুক্তির শর্ত ও প্রকল্পের সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একাধিক ফ্লাইটে জ্বালানি পাঠানো হবে। তবে রোসাটমের বিবৃতিতে পাকিস্তান আকাশসীমার অনুমতি না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি।

এখানেই ঘটনাটির কূটনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কারণ, গত দেড় বছরে ঢাকা ও ইসলামাবাদের সম্পর্ক দৃশ্যত অনেকটাই উষ্ণ হয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের সময় দুই দেশের সম্পর্ক ছিল সীমিত ও সতর্ক। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সেই অবস্থায় পরিবর্তন আসে। ডেইলি স্টার ২৫ আগস্ট ২০২৫-এর এক বিশ্লেষণে লিখেছিল, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে। এক বছরে তিনটি মন্ত্রী পর্যায়ের সফর, পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক এবং মুহাম্মদ ইউনূস ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের একাধিক বৈঠক সেই পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই দেশের বাণিজ্য ২০২৪ সালের ৬২ কোটি ৮০ লাখ ডলার থেকে ২০২৫ সালে ৮৬ কোটি ৫০ লাখ ডলারে পৌঁছায় এবং সরাসরি নৌযোগাযোগ ও সরাসরি বিমান যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এর আগে ২০২৫ সালের ২৩–২৪ আগস্ট পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ঢাকায় সরকারি সফর করেন। প্রায় ১৩ বছর পর পাকিস্তানের কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফর ছিল এটি। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তার বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবরণ অনুযায়ী, সফরটি দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নেওয়ার বিষয়ে জোর দেয়।

তবে সম্পর্কের উষ্ণতার পাশাপাশি পুরোনো অমীমাংসিত বিষয়ও রয়ে গেছে। ২৪ আগস্ট বৈঠকের পর ডেইলি স্টার জানায়, ১৯৭১ সালের গণহত্যার জন্য পাকিস্তানের আনুষ্ঠানিক ক্ষমা, পাকিস্তানে আটকে থাকা বাংলাদেশিদের প্রত্যাবাসন এবং তৎকালীন পাকিস্তানের সম্পদের অংশ নিয়ে দুই দেশের মতপার্থক্য রয়েছে। ইসহাক দার দাবি করেছিলেন, এসব বিষয় অতীতে নিষ্পত্তি হয়েছে। ঢাকা সেই অবস্থানের সঙ্গে একমত হয়নি।

তারপর তারেক রহমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরও পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ থামেনি, বরং উচ্চপর্যায়ে তা আরও দৃশ্যমান হয়েছে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি তারেক রহমানের নির্বাচনী বিজয়ে অভিনন্দন জানিয়ে দুই দেশের বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, সাংস্কৃতিক যোগাযোগ ও আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর কথা বলেন। ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল অংশ নেন এবং তার মাধ্যমে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তারেক রহমানকে পাকিস্তান সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।

সর্বশেষ ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাকে তারেক রহমান ও শাহবাজ শরিফের বৈঠক হয়েছে। পাকিস্তানের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দুই প্রধানমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিবাচক গতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ, শিক্ষা, পর্যটন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে তারা একমত হন। তারেক রহমানও বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে তার সরকারের আগ্রহের কথা জানান।

এই বাস্তবতার মধ্যেই পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার ঘটনা প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশেষ করে একই সময়ে যখন দুই দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব সম্পর্ক জোরদারের কথা বলছেন, তখন রাশিয়া থেকে আসা পারমাণবিক জ্বালানির একটি বিমানকে কেন অনুমতি দেওয়া হলো না, সেটি স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় আসছে।

কেউ কেউ এ ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সম্পর্কের আলোকে দেখছেন। তাদের ধারণা, রাশিয়া থেকে আসা একটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনে বাধা দিয়ে ইসলামাবাদ হয়তো ওয়াশিংটনের কাছে কোনো কূটনৈতিক বার্তা দিতে চাইতে পারে।

রূপপুরের ইউরেনিয়াম পরিবহন আটকে যাওয়ার ঘটনাটি কূটনৈতিকভাবে ব্যতিক্রমী। কারণ, পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান সম্পর্কের দৃশ্যমান প্রবণতা সহযোগিতামুখী। একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের পারমাণবিক প্রকল্পের সম্পর্কও দীর্ঘদিনের এবং প্রাতিষ্ঠানিক। ২০২৩ সালের অক্টোবরে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য প্রথম ইউরেনিয়াম জ্বালানির চালান নিরাপদে বাংলাদেশে পৌঁছেছিল। সেই চালানে ১৬৪টি জ্বালানি সমাবেশ ছিল। রাশিয়া থেকে ভারী কার্গো বিমানে তা ঢাকায় আনা হয় এবং পরে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় ঈশ্বরদীতে নেওয়া হয়।

তাই এবার মূল প্রশ্নটি শুধু পাকিস্তান কেন একটি বিমানকে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিল না—এতে সীমাবদ্ধ নয়। প্রশ্ন হলো, এটি কি সাময়িক অনুমতিগত জটিলতা, নাকি কোনো রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের অংশ? বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী বলেছেন, পাকিস্তান আগেও অনুমতি দিয়েছে এবং এবারও দেওয়ার কথা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো ঘাটতি বা ভুলের কারণে অনুমতি না পাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, ২৮ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ওই বৈঠকে আকাশসীমার বিষয়টি আলোচনা হয়নি বলে প্রতিমন্ত্রী জানান। তিনি বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন না হওয়ার কথাও বলেন।

সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য হলো, পাকিস্তান রূপপুরের ইউরেনিয়াম বহনকারী বিমানের নির্ধারিত রুটে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। এর ফলে ২৪ সেপ্টেম্বরের চালানটি আসেনি। ২৩ সেপ্টেম্বর রাত থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর রাত পর্যন্ত রুটের অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা হয়েছে। পরে ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। ২৮ সেপ্টেম্বর রোসাটম নতুন সময়সূচি জানিয়েছে। ১ অক্টোবর থেকে সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা এবং ডিসেম্বরের মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কিন্তু কেন পাকিস্তান অনুমতি দেয়নি—এই প্রশ্নের উত্তর এখনো অমীমাংসিত। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। রোসাটমও তাদের বিবৃতিতে কারণটি ব্যাখ্যা করেনি। ফলে এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো বার্তা দেওয়া, রাশিয়ার সঙ্গে পাকিস্তানের কূটনৈতিক হিসাব, অথবা অন্য কোনো নিরাপত্তা ও বিমান চলাচলসংক্রান্ত কারণ রয়েছে—এ মুহূর্তে কোনোটিকেই নিশ্চিত সিদ্ধান্ত হিসেবে বলা যাচ্ছে না।

বরং ঘটনাটির সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো, ঢাকা ও ইসলামাবাদের সম্পর্ক যখন গত এক বছরে দৃশ্যমানভাবে ঘনিষ্ঠ হয়েছে, তখন সেই সম্পর্কের মধ্যেই রাশিয়া থেকে বাংলাদেশের পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনের মতো একটি সংবেদনশীল চালান আকাশপথের অনুমতির কারণে আটকে গেছে। আগামী অক্টোবরের নির্ধারিত ফ্লাইটগুলো যথাসময়ে চলতে পারে কি না এবং পাকিস্তান পরবর্তী চালানগুলোর জন্য নিয়মিতভাবে আকাশসীমার অনুমতি দেয় কি না—সেটিই এখন ঘটনাটির প্রকৃত কারণ বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশ-পাকিস্তান

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটে ইউরেনিয়াম সরবরাহ শুরু অক্টোবরে

🕒 প্রকাশ: ০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, ২৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাকিস্তান কেন বাংলাদেশে জ্বালানি নিয়ে আসা বিমানকে আকাশসীমায় ঢুকতে দেয়নি, নেপথ্যে কী

🕒 প্রকাশ: ০১:৫০ পূর্বাহ্ন, ২৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাবার ছায়ায় ফ্লাভিও বলসোনারো, রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী হওয়ার লড়াই

🕒 প্রকাশ: ১২:২৫ পূর্বাহ্ন, ২৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

রিকশাওয়ালা পর্যন্ত আইন মানতে চায় না: কেএমপি কমিশনার

🕒 প্রকাশ: ১১:৫৮ অপরাহ্ন, ২৮শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে একটি বাড়িতে মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণ, এলাকায় আতঙ্ক

🕒 প্রকাশ: ১১:৫৩ অপরাহ্ন, ২৮শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

Footer Up 970x250